মারকাযুন নুজুমে’র উদ্যোগে ঐতিহাসিক বদর দিবস পালিত:
স্থান : নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লাহ লালপুর পৌষার কুরপাড় বাজারের সাথে
ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “মারকাযুন নুজুম ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার” উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
গতকাল (০৭/০৩/২০২৬ ইং) রোজ শনিবার বিকেল তিনটায় ফতুল্লার লালপুরে অবস্থিত মারকাযুন নুজুম মাদরাসার অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন উক্ত মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও ইসলামী বক্তা মুফতী ইয়াসিন আকরাম নবীনগরী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালপুর পৌঁষার পুকুরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মুহাম্মাদ মুসলিম উদ্দিন মুসা এবং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ফতুল্লা ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কাজী মুহাম্মাদ মাঈনুদ্দিন।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মুফতী আলাউদ্দীন বদর যুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন ১৭ই রমজান সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী দিবস। ঈমানি শক্তি ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো বদর যুদ্ধ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অল্প সংখ্যক সাহাবী নিয়ে নবী করীম (সা.) যে সাহসিকতা ও ঈমানি দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন, তা বর্তমান সময়ের মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয়।
তিনি আরোও বলেন বদর দিবসের শিক্ষা হলো- ন্যায়ের পথে থাকলে বিজয়ী হওয়া সম্ভব। অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে বদর যুদ্ধের চেতনা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। উক্ত অনুষ্ঠানে বদর যুদ্ধের তাৎপর্য ছাড়াও বক্তারা মারকাযুন নুজুম মাদরাসার ঈর্ষণীয় সাফল্যের ভূয়সি প্রশংসা করেন। তারা বলেন এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়েছে মাত্র কয়েক বছর। এই কয়েক বছরের মধ্যেই উক্ত মাদরাসা পড়ালেখা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সহ সারা বাংলাদেশে সুনাম কুড়িয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
এই মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ইতিমধ্যে জাতীয় মঞ্চে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। কুরআন কম্পিটিশনে চ্যানেল ২৪ ও আর টিভিতে অংশগ্রহণ করাটা আমাদের এলাকার জন্য গৌরবের বিষয়। তারা আরোও বলেন জাতীয় টেলিভিশনগুলোতে যখন অত্র মাদরাসার প্রতিবেদনমূলক নিউজ দেখি, তখন সত্যিই আমরা অভিভূত হই।
উদাহরণ টেনে এলাকার কৃতি সন্তান মুফতী আল আমিন শেখ বলেন কিছুদিন আগে অত্র মাদরাসা থেকে একজন ছাত্র মাত্র ১২০ দিনে কুরআনে হাফেজ হওয়ায় আর টিভি কে নিউজ করতে দেখেছি। শুধু তাই নয়, এই মাদরাসার ছাত্রীরাও পিছিয়ে নেই! চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে প্রচারিত সময়ের সেরা হাফেজ কুরআন প্রতিযোগিতায় এই মাদরাসার ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে ইতিমধ্যে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। আমরা অত্র মাদরাসার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি। আশা করি এই মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা একসময় জাতীয় মঞ্চ ডিঙিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের প্রতিভা বিকশিত করবে, ইনশাআল্লাহ।
আলোচনা শেষে বদর যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ও রমজানের পবিত্রতা রক্ষায়, দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় এবং ইরান-ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
মুনাজাত শেষে আগত রোজাদারদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।
উক্ত ইফতার মাহফিলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মুহাম্মাদ সেলিম আহমাদ, আল আমিনবাগ পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমান জনি, বাইতুল কুরবান জামে মসজিদ এর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও পৌঁষার পুকুরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...