নামে নামে জমে টানে’ প্রবাদ বাক্যটির সত্যতা মিলেছে নারায়ণগঞ্জে। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে নামের মিল থাকায় ফুফাতো শ্যালককে খুন করেছেন স্বামী। খুনের পর লাশ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে ফেলে দেন।
৯ মাস আগে নারায়ণগঞ্জের বেইজ স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত (১৭) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে উদ্ধার হওয়া বেইজ স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (১৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ। ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, পিবিআইরে অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত পরিচালিত হয়। তদন্তে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) মোঃ মনিরুজ্জামান।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৫ মে দুপুরে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি আজিম হোসাইন (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ মে সকালে ঢাকার শনিরআখড়া এলাকা থেকে ফয়সাল (২৭) এবং একই দিন সন্ধ্যায় রূপগঞ্জের বরাব এলাকা থেকে নুসরাত জাহান মিম (২৪) কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মিমের কাছ থেকে একটি রেডমি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, নিহত ইয়াছিন আরাফাত নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকার বেইজ স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরদিন সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ১৩ আগস্ট সকালে সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকার আশরাফ আলী অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা আফরিনা নাসরিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন থানা পুলিশ তদন্ত করেও মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করতে না পারায় পরে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, মূল আসামি আজিম হোসাইনের সঙ্গে নুসরাত জাহান মিমের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২০ সালে বিয়ে হয়। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহ ও পারস্পরিক সন্দেহের কারণে তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে আজিম তার স্ত্রী মিমের মোবাইলে ইয়াছিন আরাফাত নামে এক ব্যক্তির বার্তা দেখে সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠে। পরে জানতে পারে, ইয়াছিন আসলে মিমের ফুফাতো ভাই।
তবে স্ত্রীকে কেন্দ্র করে ভুল সন্দেহ ও ক্ষোভ থেকে আজিম ইয়াছিন আরাফাতের ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সেই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা দায়ের হয়।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...